জাতীয়

ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না

মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী জেড আই খান পান্না আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বুধবার তিনি বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে হাজির হয়ে ক্ষমা চান।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, শেখ হাসিনার আস্থাহীনতার কারণে তিনি মামলায় যুক্ত হবেন না। এরপর আদালতে অনুপস্থিত থাকায় ট্রাইব্যুনাল ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়।

ভিডিও বার্তায় পান্না বলেন, তিনি আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পেলে পদত্যাগের বিষয়টি জানাবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। এদিন বিটিআরসি আদালতকে জানায়, বিচারক ও ট্রাইব্যুনাল–সম্পর্কিত ১৮টি লিংক ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

দেশে ৬০ দিনের বেশি থাকলে প্রবাসীদের মোবাইল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক

প্রবাসীরা দেশে আসার পর ৬০ দিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ৬০ দিনের বেশি অবস্থান করলে মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে—সোমবার সচিবালয়ে মোবাইল আমদানির শুল্ক কমানো নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তসংস্থার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, বিএমইটি কার্ডধারী প্রবাসীরা তিনটি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি। যাদের কার্ড নেই, তারা একটি অতিরিক্ত ফোন আনতে পারবেন, তবে ক্রয়ের বৈধ কাগজ সঙ্গে রাখতে হবে। চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য এ নিয়ম কার্যকর হবে।

সভায় স্মার্টফোন আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে বৈধ আমদানি বাড়ে ও বাজারে দাম কমে। পাশাপাশি পুরোনো ফোনের ডাম্পিং প্রতিরোধে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হবে। মোবাইল সিম ও আইএমইআই রেজিস্ট্রেশনের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়।

জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে ইসি

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারণে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী রোববার ইসির সভায় সময় বৃদ্ধি এবং তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। কমিশন চায় আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করতে।

ইসি সূত্র জানায়, ৭–১১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং তফসিল থেকে ভোটের দিনের ব্যবধান দুই মাস রাখা হবে। এতে ভোট হতে পারে আগামী ৫–১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। গণভোট যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হওয়ায় সময় বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

সাধারণত ভোট চলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবার তা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকায় নতুন কেন্দ্র বাড়ানোর বদলে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ইসি বেশি ঝুঁকছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নিরাপত্তা জোরদার, মোতায়েন দুই প্লাটুন বিজিবি

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের। বুধবার সকাল থেকে দুই প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। একজন প্লাটুন হাসপাতালের গেটে অবস্থান করছে, আরেকটি আশপাশে টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন।

খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন থাকায় কয়েক দিন ধরে এভারকেয়ারের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সোমবার থেকেই পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আজও অনেক বিএনপি নেতা–কর্মী হাসপাতালে সামনে এসে অবস্থান করেছেন। ব্যারিকেডের বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁরা খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করার পর গতকাল থেকে এসএসএফ নিরাপত্তা দিচ্ছে। হাসপাতালের সামনে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি ও বাড়তি নিরাপত্তায় পুরো এলাকায় সতর্কতা জোরদার রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম। বুধবার দাখিল করা এ রিট আগামী সপ্তাহে বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

রিটে নির্বাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা এবং ‘ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল না থাকায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ডিসিদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ ছাড়া নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Scroll to Top