নির্বাচনের আগে এনসিপি–এবি পার্টি–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নতুন জোট ঘোষণা আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটটির আত্মপ্রকাশ হবে।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনের লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য গঠিত হচ্ছে। তিন দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্র বলছে, আরও কয়েকটি ছোট দল ভবিষ্যতে এই জোটে যুক্ত হতে পারে।

আগে চার দলের জোট গঠনের আলোচনা চললেও লক্ষ্য ও সক্ষমতা নিয়ে মতভেদের কারণে গণ অধিকার পরিষদ এতে থাকছে না। এনসিপি ও এবি পার্টিও জোটে কিছু প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল। নানা আলোচনার পর আজ তিন দলের সমন্বিত জোট ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে।

ভারতে থাকবেন কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই—জয়শঙ্কর

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ থাকা–না–থাকা পুরোপুরি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এ কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, যে পরিস্থিতিতে হাসিনা ভারতে এসেছেন, সেই বাস্তবতাই তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।

জয়শঙ্কর বলেন, হাসিনা যতদিন ভারতে থাকতে পারবেন কি না—এটি পৃথক প্রশ্ন, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত হোক। যদি আগের নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে সরকারই আসুক, তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ভারতকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশ–চীনকে নিয়ে নতুন জোটের প্রস্তাব পাকিস্তানের

পাকিস্তান উপ–প্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ–চীন–পাকিস্তানকে নিয়ে যে ত্রিদেশীয় সহযোগিতা কাঠামো গঠনের আলোচনা চলছে, তা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে তিনি বলেন, পাকিস্তান সংঘাতের বদলে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিতে চায় এবং সার্কের অচলাবস্থার মধ্যে নতুন বিকল্প কাঠামো যুক্তিসংগত হতে পারে।

ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে সার্ক বহুদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। এ অবস্থায় পাকিস্তান সার্কের বাইরে নতুন জোট গঠনের কথা ভাবছে। গত জুনে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। যদিও এটি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয় বলে জানানো হয়েছিল।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে সংকট বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, সার্কের দুর্বলতার কারণে নতুন সহযোগিতা কাঠামো প্রয়োজন; তবে ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিবেচনায় ছোট আকারের বিষয়ভিত্তিক জোটেও দেশগুলো সতর্ক থাকতে পারে। বাংলাদেশের অবস্থান, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং চীন–পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার প্রভাবও এই প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি পেলেই ঢাকায় আসবে কাতারের রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই কাতারের রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। দলের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী জানান, কাতার কর্তৃপক্ষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত রেখেছে এবং মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দিলেই তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে।

তিনি জানান, জার্মানি থেকে অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করেছে কাতার। সব প্রস্তুতি রয়েল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হচ্ছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং চিকিৎসকেরা মনে করছেন, তিনি এখনও ফ্লাই করার উপযোগী নন—এ কারণে যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে।

মেডিকেল বোর্ড গত দুদিনে বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রতিবেদন যাচাই করেছে এবং নিয়মিত বৈঠকে তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করছে। ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা, যার মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও।

জাবিতে শেখ পরিবারের নামে থাকা ৪ হলের নাম পরিবর্তন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা চারটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় নতুন নামগুলো চূড়ান্ত হয় এবং দ্রুত কার্যকর করা হবে।

নতুন নাম অনুযায়ী—বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এখন ‘ফেলানী খাতুন হল’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল’। ১০ তলা শেখ রাসেল হলের নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব সলিমুল্লাহ হল’। আর মেয়েদের ‘শেখ হাসিনা হল’ নতুন নাম পেয়েছে ‘জুলাই চব্বিশ জাগরণী হল’, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান জানিয়ে করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং শিগগিরই নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

Scroll to Top