ভারতের গোয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৫

ভারতের উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকায় একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়ে গোয়া মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। রবিবার ভোরে মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।

গোয়া পুলিশ জানায়, মৃতদের বেশিরভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পর্যটক ও ১৪ জন কর্মচারী আছেন; বাকিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। শনিবার রাতের শেষ প্রহরে ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ ক্লাবে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও বহু মানুষ প্রাণ হারান।

সুদানে কিন্ডারগার্টেনে আরএসএফের হামলা, শিশুসহ নিহত অন্তত ১১৬

সুদানের দক্ষিণ করদোফান অঞ্চলে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)–এর হামলায় অন্তত ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি কিন্ডারগার্টেনের ৪৬ শিশু। স্থানীয় কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সরকার সমর্থিত সুদান সশস্ত্র বাহিনীর (এসএএফ) দুই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার প্রথমে কিন্ডারগার্টেন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরে উদ্ধার করতে এলে জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষের ওপরও আঘাত হানে আরএসএফ। শহরের হাসপাতাল ও একটি সরকারি ভবনেও বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, শিশুদের ওপর হামলা শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং অবিলম্বে এ ধরনের আক্রমণ বন্ধ হওয়া উচিত।

এনইআইআর সংস্কারের দাবিতে বিটিআরসির সামনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধ

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভের কারণে ভবনসংলগ্ন সড়কসহ আশপাশ এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ব্যবসায়ীরা এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করার দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের দাম বাড়বে।

১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিটিআরসি। এ ব্যবস্থায় সব মোবাইল ফোন বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং অবৈধভাবে আনা ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়কে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নির্বাচনের আগে এনসিপি–এবি পার্টি–রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নতুন জোট ঘোষণা আজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটটির আত্মপ্রকাশ হবে।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনের লক্ষ্যেই এই রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য গঠিত হচ্ছে। তিন দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। দলীয় সূত্র বলছে, আরও কয়েকটি ছোট দল ভবিষ্যতে এই জোটে যুক্ত হতে পারে।

আগে চার দলের জোট গঠনের আলোচনা চললেও লক্ষ্য ও সক্ষমতা নিয়ে মতভেদের কারণে গণ অধিকার পরিষদ এতে থাকছে না। এনসিপি ও এবি পার্টিও জোটে কিছু প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল। নানা আলোচনার পর আজ তিন দলের সমন্বিত জোট ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে।

ভারতে থাকবেন কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই—জয়শঙ্কর

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ থাকা–না–থাকা পুরোপুরি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত—এ কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, যে পরিস্থিতিতে হাসিনা ভারতে এসেছেন, সেই বাস্তবতাই তাঁর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।

জয়শঙ্কর বলেন, হাসিনা যতদিন ভারতে থাকতে পারবেন কি না—এটি পৃথক প্রশ্ন, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত চায় বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত হোক। যদি আগের নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে সরকারই আসুক, তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

Scroll to Top